আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স গোয়েন্দা পর্যবেক্ষক সংস্থা। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে কাবুলে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় আখুন্দজাদাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে শতাধিক তালেবান যোদ্ধা হতাহত হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় তাদের কোনো শীর্ষ নেতা নিহত হননি। উল্টো সীমান্তে পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে কাবুল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর প্রত্যাহারের পর তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আফগানিস্তানের ‘আমিরুল মুমিনিন’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালেবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত তার অনুমোদন ও দিকনির্দেশনার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আখুন্দজাদার মৃত্যুর দাবিকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে বিষয়টি নিয়ে তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্রের নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই থাকছে।


