আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানে যৌথ প্রি-এম্পটিভ হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় একাধিক স্থানে সাইরেন বেজে উঠেছে। সতর্কবার্তা জারির পর নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সামরিক বাহিনী জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ ও সমন্বিত হামলা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা ইসরায়েলের জন্য “অস্তিত্বগত হুমকি” তৈরি করছে।
আইডিএফ মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, “অভিযান যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।” একই সঙ্গে নাগরিকদের প্রতি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আপডেটেড নির্দেশনা অনুসরণই প্রাণ রক্ষার প্রধান উপায়।
উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সাইরেন বাজানোর খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন শহর ও শিল্পাঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ডেভিড’স স্লিং ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও প্রভাব পড়েছে। হাঙ্গেরিভিত্তিক বিমান সংস্থা উইজ এয়ার জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারা সাময়িকভাবে ইসরায়েল, দুবাই, আবুধাবি ও আম্মানে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় কমে এসেছে এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক মহল উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট পেতে পাঠকদের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

